শাহবাগ জামিয়া এতিমখানা : সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

shahbag jamia

শাহবাগ জামিয়া মাদানিয়া ক্বাসিমুল উলূম এতিমখানা বাংলাদেশের একটি ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষাভিত্তিক এতিমখানা। দেশের প্রান্তবর্তী ও সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চল সিলেটের জকিগঞ্জে এর অবস্থান। এ অঞ্চলের পিতৃ-মাতৃহীন ও দুঃস্থ-দরিদ্র শিশুরা খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা প্রভৃতি বুনিয়াদি ও সহজাত অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে অগত্যা অমানবিক শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়ছিল এবং এভাবে সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন জলাঞ্জলি দিয়ে নতুন প্রজন্মের বড় একটি অংশ যথার্থ মানুষ হয়ে ওঠার পরিবর্তে পা বাড়াচ্ছিল হতাশা আর অন্ধকারের পথে। এটা ছিল খুব কঠিন আর দীর্ঘস্থায়ী একটা সামাজিক সঙ্কট, মানুষ ও সমাজ নিয়ে যাঁরা ভাবেন তাঁদের কাছে এর আশু কোনো সমাধান ছিল না। এই সামাজিক সঙ্কট কাটিয়ে উঠতেই শাহবাগ মাদরাসা কর্তৃপক্ষ কাছের ও দূরের কিছু মহৎ মানুষের সহযোগিতা নিয়ে ২০০৭ সালে এতিমখানাটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমে মাদরাসার প্রতিবেশী গ্রাম মহিদপুরের জনাব হাজী আবদুল্লাহ এ প্রকল্পের জন্যে তাঁর ১২ শতক জমি দান করেন। তারপরই এগিয়ে আসেন একই গ্রামের যুক্তরাষ্ট্র-প্রবাসী কৃতী চিকিৎসক ডা. আবদুল মালিক, তাঁর অর্থায়নে সম্পন্ন হয় চারতলা-বিশিষ্ট এতিমখানা ভবনের প্রথম তলার নির্মাণকাজ। অতঃপর ক্রমশ দেশ-বিদেশের বহু জনহিতৈষীর সার্বিক সহায়তায় মাথা তুলে দাঁড়ায় পূর্ণ ভবনটি। এতিমখানার যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ও ব্যবস্থাপনা থাকা সত্ত্বেও এটি গড়পড়তা এতিমখানার মতো নয়, আল্লাহর রহমতে আমরা একে একটি পরিপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চেহারা দিতে পেরেছি। ফলে এতিমখানাটি একটি ব্যতিক্রমী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যাপক সুনাম কুড়োতে সক্ষম হয়েছে। শিক্ষার উন্নত মান ও সুন্দর ব্যবস্থাপনার কারণে দ্রুত বাড়ছে শিক্ষার্থী-সংখ্যা। বর্তমানে এতে প্রায় ৬০০ এতিম ও অসহায় শিশু বসবাস করছে, তন্মধ্যে ৪০ জন শিশু বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিশেষ মঞ্জুরী ‘ক্যাপিটেশন’ পেয়ে আসছে। এতিমখানাবাসী সব শিশুকেই মানসম্মত খাবার, পোশাক, শিক্ষা-উপকরণ এবং ওষুধ-পথ্য নিয়মিত বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে এতে ৪৬ জন শিক্ষক ও তত্ত্বাবধায়ক এবং ৬ জন কর্মচারী নিযুক্ত রয়েছেন। এসব শিশুর প্রতিপালন ও শিক্ষাদান এবং নিযুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় বার্ষিক খরচ হয় প্রায় ৯০ লাখ টাকা ($83,000)। এ সমুদয় অর্থই সংস্থান করতে হয় স্থানীয় ও প্রবাসী বিত্তবান ব্যক্তিদের অনুদান থেকে। সম্প্রতি উত্তরোত্তর এতিমসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বর্তমান ভবনে স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় জামিয়ার আঙিনার উত্তরপ্রান্তে নতুন আরেকটি পাঁচতলা-বিশিষ্ট এতিমখানা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করে ইতোমধ্যেই দুই তলা সম্পন্ন হয়েছে এবং কাজ চলছে বিরামহীন। এটিরও নির্মাণ শেষ হলে আমরা দ্বিগুণ শিশুকে ঠাঁই দিতে পারব। উল্লেখ্য, শাহবাগ জামিয়া এতিমখানাটি একটি মানসম্মত এতিমখানা হিসেবে বিগত ১১-০৭-২০১০ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধিত ও প্রশংসিত হয়ে সরকারি সনদ লাভ করেছে, নিবন্ধন নম্বর ১১১৭/১০। অতঃপর সাফল্য ও স্বীকৃতির এ ধারাবাহিকতায় ০১-১১-২০১৬ তারিখে প্রতিষ্ঠানটি এতিম লালন-পালন ছাড়াও আর্তমানবতার সেবায় বহুমুখী প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ফলে একটি পূর্ণ সেবামূলক এনজিও সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের এনজিও বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন লাভ করে, নিবন্ধন নং-৩০৫২।

আমরা এইসব অনাথ ও অসহায় শিশুকে একটি পরিবারের মতো নিবিড় যত্ন ও ভালোবাসা দিয়ে লালনপালন করার চেষ্টা করছি, এদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে কাজ করে চলেছি, যাতে বড় হয়ে তারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে শেখে এবং ইসলাম, মুসলিম, দেশ ও সমাজের সেবায় গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে পারে। সেই সঙ্গে মযলুম উদ্বাস্তু শরণার্থী মুসলিম জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের জন্যে আশ্রয়ণ ও পরিপোষণের নানা প্রকল্পসহ হতদরিদ্র ও প্রতিবন্ধীদের সেবায় অব্যাহতভাবে একের পর এক উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছি। বস্তুত আল্লাহই তাওফীকদাতা এবং আমাদের সকল তৎপরতা তাঁরই সম্মুখে নীত হবে। অতএব দেশ-বিদেশের মহৎপ্রাণ ও শিক্ষানুরাগী ভাই-বোনদের প্রতি আমাদের আকুল আহবান—আর্তমানবতার সেবায় আপনিও সাধ্যমতো শরিক হোন, শাহবাগ মাদরাসা ও এতিমখানার পাশে দাঁড়ান, নির্মাণাধীন পাঁচতলা-বিশিষ্ট এতিমখানা ভবনটির নির্মাণকাজ দ্রুত সমাপ্ত করতে বিশেষ এককালীন অনুদান প্রদান করুন এবং এক বা একাধিক শিশুর অভিভাবক/স্পন্সর হয়ে মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহভাজন হোন! আল্লাহ আমাদেরকে অনুগ্রহ করুন, যাতে আমরা ঠিক সময়ে ঠিক কাজটি করতে সমর্থ হই!

আর্তমানবতার সেবায় জামিয়া

মিয়ানমারে নির্বিচার গণহত্যা ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রায় এগার লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। এসব দুর্গত নর-নারী এবং এতিম শিশুদের কল্যাণে শাহবাগ জামিয়া মাদানিয়া এতিমখানা প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। তাদের জন্যে কয়েক শো বসতঘর এবং মাদরাসা-মসজিদ নির্মাণ এবং বহু গভীর নলকূপ স্থাপন করে দিয়েছে। ছবিতে শাহবাগ জামিয়ার মুহতামিম ক্বারী মাওলানা আবদুল হাফিযকে এসব ত্রাণ প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যাচ্ছে। তাঁর সঙ্গে আছেন লিয়া রিলিফ ট্রাস্ট ইউকে-এর চেয়ারম্যান ড. শায়খ আশরাফ মাকদাম এবং যুক্তরাজ্যের দারুল উলূম বেরি মাদরাসার প্রধান মাওলানা বিলাল বাওয়া।

[:en]Shahbag Jamia's Rohingya Projects[:]

বর্তমানে শাহবাগ জামিয়া এতিমখানায় ছয় শতাধিক এতিম ও অসহায় শিশু বসবাস ও পড়াশোনা করছে। বর্তমান এতিমখানা ভবনে এদের স্থান সঙ্কুলান হচ্ছে না। সেজন্যে দুই শো শিশু-কিশোরের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি নতুন পাঁচতলা ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে। আল-হামদু লিল্লাহ, নিচ তলার কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বাকি চার তলার প্রতিটির নির্মাণ-ব্যয় ধরা হয়েছে £৩৩,০০০ পাউন্ড। এজন্যে আমরা দেশ-বিদেশের মহানুভব দাতা ভাই-বোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।